1. live@nccbangla.com : NCC BANGLA : NCC BANGLA
  2. info@www.nccbangla.com : NCC BANGLA :
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে এইডস সংক্রমণ: প্রতি মাসে শনাক্ত ৬ জন, প্রবাসীরা ঝুঁকিতে

ইমাম হোসেন ইমন
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

 

ইমাম হোসেন ইমন প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে এইচআইভি-এইডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে (২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২১৭ জন এবং এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের।

শুধু গত এক বছরে (২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত) নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলারই ৫৩ জন। বাকিরা কক্সবাজার, ফেনী, রাঙামাটি, কুমিল্লা, নোয়াখালীর বাসিন্দা।

 

প্রবাসীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি

চিকিৎসকরা বলছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে শনাক্ত হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশই প্রবাসী বা তাদের পরিবারের সদস্য। প্রবাসে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, নিরাপদ যৌন আচরণের ঘাটতি—এসব কারণে প্রবাসীদের মধ্যেই ভাইরাসটি সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ডা. জুনায়েদ মাহমুদ খান বলেন,
“নানা কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ এইডসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসীরা অন্যতম। অসচেতনতার কারণে প্রবাসী স্বজনদের মাধ্যমেই পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন।”

 

দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ায় বাড়ছে মৃত্যুহার

বিশেষজ্ঞদের মতে, শনাক্ত হওয়া অনেক রোগীই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছেন দেরিতে, যখন তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়ে।

ডা. জুনায়েদ মাহমুদ খান বলেন,
“গত এক বছরে যেসব রোগী মারা গেছেন—তাদের বেশিরভাগই খুব খারাপ অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। আগেভাগে এলে তাদের বাঁচানো সম্ভব ছিল।”

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় চর্ম ও সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান রাহাত বলেন,
“কয়েক বছর ধরে নতুন করে যে রোগী বাড়ছে, তার বেশিরভাগই অভিবাসী বা তাদের পরিবারের সদস্য। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এইচআইভি নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব।”

 

দায়ী অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ, সচেতনতার ঘাটতি

বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, নিরাপদ পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতা, এবং সামাজিক ট্যাবু—এই তিনটি কারণই সংক্রমণ বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

অব্যবস্থাপনা, অজ্ঞতা, এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

 

জাতীয় পরিস্থিতি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস-এসটিডি প্রোগ্রাম (এএসপি) জানায়, বর্তমানে দেশে এইডসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৮৬৫ জন, যার মধ্যে ৩০০ জন শিশু। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯২৪ জন রোগী।

চট্টগ্রামসহ দেশের ২৩টি জেলাকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই প্রতিরোধের মূল উপায়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচআইভি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো—

ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলা

নিরাপদ যৌন অভ্যাস

নিয়মিত পরীক্ষা

প্রবাসে যাওয়ার আগে ও পরে সচেতনতা বৃদ্ধি

পরিচিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া

 

এছাড়া পরিবার ও সমাজে এইচআইভি সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা জরুরি, যাতে আক্রান্তরা দেরি না করে চিকিৎসা নিতে পারেন।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট