
বরিশাল প্রধান ডাকঘরে সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং নানা আর্থিক অনিয়মের ঘটনাও সামনে এসেছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব আচরণের কারণে কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতেও বাধ্য হয়েছেন। পাশাপাশি একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
কর্মচারীদের একটি অংশের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত ছুটি ছাড়াই নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তিনি রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি। নির্ধারিত বাসা থাকা সত্ত্বেও সেখানে না থেকে তিনি রেস্টহাউজে অবস্থান করতেন এবং বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া পোস্ট অফিসের অভ্যন্তরে একটি বেসরকারি ব্যাংককে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
কর্মচারীদের অভিযোগ, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ বহন, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং তদন্তের নামে হয়রানির মাধ্যমে ঘুষ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে। বদলি ও পদায়ন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু কর্মচারীকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই স্থানে রাখা হয়েছে এবং অন্যদের ক্ষেত্রে প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে।