সাংবাদিকতার আড়ালে ব্লাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট,নৈপথ্য ভূঁইফোড় আমার স্বাধীন বাংলাদেশ নামক নিউজ প্রোর্টাল
সম্পাদকীয়
প্রকাশিত:
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
২
বার পড়া হয়েছে
সাংবাদিকতার আড়ালে ব্লাকমেইল ও চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট,নৈপথ্য ভূঁইফোড় আমার স্বাধীন বাংলাদেশ নামক নিউজ প্রোর্টাল
নিজস্ব প্রতিবেদকঃসাংবাদিকতার পবিত্র সাইনবোর্ড ব্যবহার করে এক শ্রেণির ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল সরকারি কর্মকর্তাদের জিম্মি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ‘দৈনিক আমার স্বাধীন বাংলাদেশ’ নামক একটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে ব্লাকমেইল ও চাঁদাবাজির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই পোর্টালটির মূল লক্ষ্য মূলত সরকারের উন্নয়নমূলক খাতের প্রকৌশলীরা। সম্প্রতি এলজিইডি, বন বিভাগ, শ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকৌশলী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীদের টার্গেট করে ধারাবাহিক মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দাবি, প্রকাশিত সংবাদগুলোর সাথে বাস্তবতার কোনো ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। প্রকৌশলীদের দেওয়া তথ্য মতে, সংবাদ সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো সাজিয়ে নিউজ করা হয়েছে তার পুরোটাই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মূলত এই নিউজ পোর্টালটি সাংবাদিকতার লেবাস ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি করে আসছে। কোনো কর্মকর্তা তাদের চাহিদা মতো চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে টার্গেট করে মিথ্যা মানহানিকর তথ্য সাজিয়ে অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দৈনিক আমার স্বাধীন বাংলাদেশ’ পোর্টালের ওয়েবসাইটে দেওয়া অফিসের ঠিকানায় গিয়ে সরজমিনে কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মূলত ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তে আরও দেখা গেছে, এলজিইডি, বন বিভাগ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তার নিকট থেকে ব্লাকমেইল করে ব্যাংক একাউন্ট, নগদ এবং বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।
এ বিষয়ে এলজিইডি, বন বিভাগ এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই পোর্টালটি পরিচালনা কারিরা কর্মকর্তাদের নামে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। পরে নিজের সামাজিক সম্মান ও পরিবারের কথা বিবেচনা করে তারা এই চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিতে বাধ্য হন এবং এক প্রকার ব্লাকমেইলের শিকার হয়ে বড় অংকের টাকা প্রদান করেন। এখনো এই চক্রটি বিভিন্ন দপ্তরের প্রকৌশলীদের টার্গেট করে ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেখে প্রকৃত সাংবাদিক সমাজের মাঝে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের এক নেতা জানান, এই অনলাইন পত্রিকাটির বাংলাদেশে কোনো বৈধ নিবন্ধন নেই। এরা মূলত গুপ্তভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এদের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো কর্মকর্তাদের টার্গেট করে মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। প্রকৃত সংবাদকর্মীরা মনে করেন, এই সাইটটির মাধ্যমে সাংবাদিকতার পবিত্রতাকে কলুষিত করা হচ্ছে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘দৈনিক আমার স্বাধীন বাংলাদেশ’ অনলাইন পোর্টালে দেওয়া যোগাযোগ নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও নম্বরটি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে। পোর্টালটির কোনো স্থায়ী অফিস বা দায়িত্বশীল কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
পেশাদার সাংবাদিক সমাজ ও ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা মনে করেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত মানহানি নয়, বরং দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের চরম লঙ্ঘন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল রাখতে এবং সৎ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ভুঁইফোড় পোর্টালটির ডোমেইন বন্ধসহ এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত আইনি আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বন বিভাগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তারা সম্মিলিত ভাবে এ ভূঁইফোড় অনলাইন দৈনিক আমার স্বাধীন বাংলাদেশ নামক পত্রিকা এবং এই সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলার প্রস্থুতি চলছে বলে জানা গেছে।
চেয়ারম্যান : সাজ্জাদুর রহমান
সম্পাদক : ইমাম হোসেন ইমন
ঠিকানা : বাসাবো বৌদ্ধ মন্দির হক সোসাইটি প্রজেক্ট রহমান ভিলা (২য় তলা)
যোগাযোগ :
01676983857 01632143642